‘মিস্টার বচ্চনকে শেষবারের মত দেখে আসুন’, চিকিৎসকদের কথাতে কেঁদে ভাসালেন জয়া বচ্চন

বলিউডের বিখ্যাত একজন অভিনেতা হলেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি বলিউডের অনেক সুপারহিট সিনেমা করেছেন। বলিউডের সিনিয়ার অভিনেতাদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন সেলিব্রিটি। তিনি ১১ই অক্টোবর ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ১৯৬৯ সালে। এই মহান অভিনেতা বড়ই কঠিন মনের ও লড়াকু স্বভাবের তাই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতেও তিনি পিছিয়ে থাকেননি।

২৬ জুলাই ১৯৮২ সালে অমিতাভের সঙ্গে একটি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এই দুর্ঘটনাটি ঘটে ছিল মনমোহন দেশাই এর পরিচালিত সিনেমা কুলির শুটিংয়ের সময়। শুটিংয়ের স্থানটি ছিল ব্যাঙ্গালোর থেকে ১৬কিমি দূরে। অমিতাভ ও পুনিতের একটি ফাইট সিন চলাকালীন টেকনিক্যাল ভুলের কারণে অমিতাভ লাফ দিতে গিয়ে পড়ে যান। এই পড়ে যাবার ফলে অমিতাভের লিভারে মারাত্মক ক্ষতি হয়। তখন ব্যাপারটিতে এতটা নজর না দিয়ে তাকে হোটেলে আনা হয় এবং পেনকিলার খাওয়ানো হয়। কিন্তু পেইনকিলারেও ব্যথা কমেনি। এরপরে তার শরীরে আরো দুর্বলতা বাড়তে থাকে ও পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।

এই পরিস্থিতি দেখে অমিতাভকে মুম্বাই ফিরিয়ে আনা হয় এবং ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অপারেশন শেষ হবার পরে তার শরীরে রক্তের পরিমাণ কম তা বোঝা যায় এবং খুব শীঘ্রই তাকে রক্ত দেওয়া হয়। কিন্তু সেই রক্ততে ছিল হেপাটাইটিস বি এর জীবাণু। এর ফলে অমিতাভের মৃত্যু সংকট দেখা দেয়। সেদিন হয়তো ডক্টর উদওয়াদিয়া না থাকলে একটি দুর্ঘটনা ঘটে যেত। ডক্টর উদওয়াদিয়া অমিতাভকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে আনেন। এই ঘটনাটি অমিতাভ তার ব্লগে আমাদের সঙ্গে শেয়ারকরেছেন।

হাসপাতালে তাঁর দ্বিতীয় অপারেশনের পর অমিতাভের জ্ঞান না ফেরায় সকলেই ভেবেছিলেন তিনি হয়ত আর বাঁচবেন না। ডাক্তাররা জয়া বচ্চনকে অমিতাভকে শেষবারের মতো দেখে নেবার কথা বলেন। ডাক্তাররা এরপরে অমিতাভের ওপর একের পর এক কর্টিসোন ইনজেকশন প্রয়োগ করেন ও এর পরে অমিতাভের জ্ঞান ফিরে আসে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*